All About Rabindra Sangeet

রবীন্দ্র সঙ্গীতের সব কিছু

Geetabitan.com (since 2008)

Welcome to Geetabitan

Share this page

Chandalika
চণ্ডালিকা

2nd Scene / দ্বিতীয় দৃশ্য


অর্ঘ্য নিয়ে বৌদ্ধনারীদের মন্দিরে গমন

স্বর্ণবর্ণে সমুজ্জ্বল নব চম্পাদলে
বন্দিব শ্রীমুনীন্দ্রের পাদপদ্মতলে ।
পুণ্যগন্ধে পূর্ণ বায়ু হল সুগন্ধিত,
পুষ্পমাল্যে করি তাঁর চরণ বন্দিত ॥

প্রস্থান


প্রকৃতি:
ফুল বলে, ধন্য আমি
ধন্য আমি মাটির 'পরে ।
দেবতা ওগো, তোমার সেবা
আমার ঘরে ।
জন্ম নিয়েছি ধূলিতে,
দয়া করে দাও ভুলিতে,
নাই ধূলি মোর অন্তরে ।
নয়ন তোমার নত করো,
দলগুলি কাঁপে থরোথরো ।
চরণপরশ দিয়ো দিয়ো,
ধূলির ধনকে করো স্বর্গীয়,
ধরার প্রণাম আমি তোমার তরে ॥

মা:
তুই অবাক ক'রে দিলি আমায় মেয়ে ।
পুরাণে শুনি না কি তপ করেছেন উমা
রোদের জ্বলনে,
তোর কি হল তাই ।

প্রকৃতি:
হাঁ মা, আমি বসেছি তপের আসনে ।

মা:
তোর সাধনা কাহার জন্যে ।

প্রকৃতি:
যে আমারে দিয়েছে ডাক,
বচনহারা আমাকে দিয়েছে বাক্ ।
যে আমারি জেনেছে নাম,
ওগো তারি নামখানি মোর হৃদয়ে থাক্ ।
আমি তারি বিচ্ছেদদহনে
তপ করি চিত্তের গহনে ।
দুঃখের পাবকে হয়ে যায় শুদ্ধ
অন্তরে মলিন যাহা আছে রুদ্ধ,
অপমান-নাগিনীর খুলে যায় পাক ॥

মা:
কিসের ডাক তোর কিসের ডাক ।
কোন্ পাতালবাসী অপদেবতার ইশারা
তোকে ভুলিয়ে নিয়ে যাবে,
আমি মন্ত্র প'ড়ে কাটাব তার মায়া ।

প্রকৃতি:
আমার মনের মধ্যে বাজিয়ে দিয়ে গেছে—
জল দাও, জল দাও ।

মা:
পোড়া কপাল আমার !
কে বলেছে তোকে 'জল দাও' !
সে কি তোর আপন জাতের কেউ ।

প্রকৃতি:
হাঁ গো মা, সেই কথাই তো ব'লে গেলেন তিনি,
তিনি আমার আপন জাতের লোক ।
আমি চণ্ডালী, সে যে মিথ্যা, সে যে মিথ্যা,
সে যে দারুণ মিথ্যা ।
শ্রাবণের কালো যে মেঘ
তারে যদি নাম দাও "চণ্ডাল',
তা ব'লে কি জাত ঘুচিবে তার,
অশুচি হবে কি তার জল ।
তিনি ব'লে গেলেন আমায়—
নিজেরে নিন্দা কোরো না,
মানবের বংশ তোমার,
মানবের রক্ত তোমার নাড়ীতে ।
ছি ছি মা, মিথ্যা নিন্দা রটাস নে নিজের,
সে-যে পাপ ।
রাজার বংশে দাসী জন্মায় অসংখ্য,
আমি সে দাসী নই ।
দ্বিজের বংশে চণ্ডাল কত আছে,
আমি নই চণ্ডালী ।

মা:
কী কথা বলিস তুই,
আমি যে তোর ভাষা বুঝি নে ।
তোর মুখে কে দিল এমন বাণী ।
স্বপ্নে কি কেউ ভর করেছে তোকে
তোর গতজন্মের সাথি ।
আমি যে তোর ভাষা বুঝি নে ।

প্রকৃতি:
এ নতুন জন্ম, নতুন জন্ম,
নতুন জন্ম আমার ।
সেদিন বাজল দুপুরের ঘণ্টা,
ঝাঁ ঝাঁ করে রোদ্দুর,
স্নান করাতেছিলেম কুয়োতলায়
মা-মরা বাছুরটিকে ।
সামনে এসে দাঁড়ালেন
বৌদ্ধ ভিক্ষু আমার—
বললেন, জল দাও ।
শিউরে উঠল দেহ আমার,
চমকে উঠল প্রাণ ।
বল্ দেখি মা,
সারা নগরে কি কোথাও নেই জল !
কেন এলেন আমার কুয়োর ধারে,
আমাকে দিলেন সহসা
মানুষের তৃষ্ণা-মেটানো সম্মান ।

বলে, দাও জল, দাও জল ।
দেব আমি কে দিয়েছে হেন সম্বল ।
কালো মেঘ-পানে চেয়ে
এল ধেয়ে
চাতক বিহ্বল—
বলে, দাও জল ।
ভূমিতলে হারা
উৎসের ধারা
অন্ধকারে
কারাগারে ।
কার সুগভীর বাণী
দিল হানি
কালো শিলাতল—
বলে দাও জল ॥

মা:
বাছা, মন্ত্র করেছে কে তোকে,
তোর পথ-চাওয়া মন টান দিয়েছে কে ।

প্রকৃতি:
সে যে পথিক আমার,
হৃদয়পথের পথিক আমার ।
হায় রে আর সে তো এল না এল না,
এ পথে এল না,
আর সে যে চাইল না জল ।
আমার হৃদয় তাই হল মরুভূমি,
শুকিয়ে গেল তার রস—
সে যে চাইল না জল ।

চক্ষে আমার তৃষ্ণা,
তৃষ্ণা আমার বক্ষ জুড়ে ।
আমি বৃষ্টিবিহীন বৈশাখী দিন,
সন্তাপে প্রাণ যায় যে পুড়ে ।
ঝড় উঠেছে তপ্ত হাওয়ায় হাওয়ায়,
মনকে সুদূর শূন্যে ধাওয়ায়—
অবগুণ্ঠন যায় যে উড়ে ।
যে ফুল কানন করত আলো,
কালো হয়ে সে শুকালো ।
ঝরনারে কে দিল বাধা—
নিষ্ঠুর পাষাণে বাঁধা
দুঃখের শিখরচূড়ে ॥

মা:
বাছা, সহজ ক'রে বল আমাকে
মন কাকে তোর চায় ।
বেছে নিস মনের মতন বর—
রয়েছে তো অনেক আপন জন ।
আকাশের চাঁদের পানে
হাত বাড়াস নে ।

প্রকৃতি:
আমি চাই তাঁরে
আমারে দিলেন যিনি সেবিকার সম্মান,
ঝড়ে-পড়া ধুতরো ফুল
ধুলো হতে তুলে নিলেন যিনি দক্ষিণ করে ।
ওগো প্রভু, ওগো প্রভু
সেই ফুলে মালা গাঁথো,
পরো পরো আপন গলায়,
ব্যর্থ হতে তারে দিয়ো না দিয়ো না ।

রাজবাড়ির অনুচরের প্রবেশ

অনুচর:
সাত দেশেতে খুঁজে খুঁজে গো
শেষকালে এই ঠাঁই
ভাগ্যে দেখা পেলেম রক্ষা তাই ।

মা:
কেন গো কী চাই ।

অনুচর:
রানীমার পোষা পাখি কোথায় উড়ে গেছে—
সেই নিদারুণ শোকে
ঘুম নেই তাঁর চোখে,
ও চারণের বউ ।
ফিরিয়ে এনে দিতেই হবে তোকে,
ও চারণের বউ ।

মা:
উড়োপাখি আসবে ফিরে
এমন কী গুণ জানি ।

অনুচর:
মিথ্যে ওজর শুনব না, শুনব না,
শুনবে না তোর রানী ।
জাদু ক'রে মন্ত্র প'ড়ে ফিরে আনতেই হবে
খালাস পাবি তবে,
ও চারণের বউ ।

প্রস্থান


প্রকৃতি:
ওগো মা, ওই কথাই তো ভালো ।
মন্ত্র জানিস তুই,
মন্ত্র প'ড়ে
দে তাঁকে তুই এনে ।

মা:
ওরে সর্বনাশী, কী কথা তুই বলিস—
আগুন নিয়ে খেলা !
শুনে বুক কেঁপে ওঠে,
ভয়ে মরি ।

প্রকৃতি:
আমি ভয় করি নে মা,
ভয় করি নে ।
ভয় করি মা, পাছে
সাহস যায় নেমে,
পাছে নিজের আমি মূল্যে ভুলি ।
এত বড়ো স্পর্ধা আমার,
এ কী আশ্চর্য !
এই আশ্চর্য সে'ই ঘটিয়েছে—
তারো বেশি ঘটবে না কি,
আসবে না আমার পাশে,
বসবে না আধো-আঁচলে?

মা:
তাঁকে আনতে যদি পারি
মূল্য দিতে পারবি কি তুই তার ।
জীবনে কিছুই যে তোর
থাকবে না বাকি ।

প্রকৃতি:
না, কিছুই থাকবে না, কিছুই থাকবে না,
কিছুই না, কিছুই না ।
যদি আমার সব মিটে যায়
সব মিটে যায়,
তবেই আমি বেঁচে যাব যে
চিরদিনের তরে
যখন কিছুই থাকবে না ।
দেবার আমার আছে কিছু
এই কথাটাই যে
ভুলিয়ে রেখেছিল সবাই মিলে—
আজ জেনেছি, আমি নই-যে অভাগিনী;
দেবই আমি, দেবই আমি, দেব,
উজাড় করে দেব আমারে ।
কোনো ভয় আর নেই আমার ।
পড়্ তোর মন্তর, পড়্ তোর মন্তর,
ভিক্ষুরে নিয়ে আয় অমানিতার পাশে,
সে'ই তারে দিবে সম্মান—
এত মান আর কেউ দিতে কি পারে ।

মা:
বাছা, তুই যে আমার বুকচেরা ধন ।
তোর কথাতেই চলেছি
পাপের পথে, পাপীয়সী ।
হে পবিত্র মহাপুরুষ,
আমার অপরাধের শক্তি যত
ক্ষমার শক্তি তোমার
আরো অনেক গুণে বড়ো ।
তোমারে করিব অসম্মান—
তবু প্রণাম, তবু প্রণাম, তবু প্রণাম ।

প্রকৃতি:
আমায় দোষী করো ।
ধুলায়-পড়া ম্লান কুসুম
পায়ের তলায় ধরো ।
অপরাধে ভরা ডালি
নিজ হাতে করো খালি,
তার পরে সেই শূন্য ডালায়
তোমার করুণা ভরো—
আমায় দোষী করো ।
তুমি উচ্চ, আমি তুচ্ছ
ধরব তোমায় ফাঁদে
আমার অপরাধে ।
আমার দোষকে তোমার পুণ্য
করবে তো কলঙ্কশূন্য—
ক্ষমায় গেঁথে সকল ত্রুটি
গলায় তোমার পরো ॥

মা:
কী অসীম সাহস তোর, মেয়ে ।

প্রকৃতি:
আমার সাহস !
তাঁর সাহসের নাই তুলনা ।
কেউ যে কথা বলতে পারে নি
তিনি ব'লে দিলেন কত সহজে—
জল দাও ।
ওই একটু বাণী—
তার দীপ্তি কত;
আলো ক'রে দিল আমার সারা জন্ম ।
বুকের উপর কালো পাথর চাপা ছিল যে,
সেটাকে ঠেলে দিল—
উথলি উঠল রসের ধারা ।

মা:
ওরা কে যায়
পীতবসন-পরা সন্ন্যাসী ।

বৌদ্ধ ভিক্ষুর দল

ভিক্ষুগণ:
নমো নমো বুদ্ধদিবাকরায়,
নমো নমো গোতমচন্দিমায়,
নমো নমো নন্তগুণণ্ণরায়,
নমো নমো সাকিয়নন্দনায় ।

প্রকৃতি: মা, ওই যে তিনি চলেছেন সবার আগে আগে ! ফিরে তাকালেন না, ফিরে তাকালেন না— তাঁর নিজের হাতের এই নূতন সৃষ্টিরে আর দেখিলেন না চেয়ে ! এই মাটি, এই মাটি, এই মাটিই তোর আপন রে ! হতভাগিনী, কে তোরে আনিল আলোতে শুধু এক নিমেষের জন্যে ! থাকতে হবে তোকে মাটিতেই সবার পায়ের তলায় ।

মা:
ওরে বাছা, দেখতে পারি নে তোর দুঃখ—
আনবই আনবই, আনবই তারে
মন্ত্র প'ড়ে ।

প্রকৃতি:
পড়্ তুই সব চেয়ে নিষ্ঠুর মন্ত্র,
পাকে পাকে দাগ দিয়ে
জড়ায়ে ধরুক ওর মনকে ।
যেখানেই যাক,
কখনো এড়াতে আমাকে
পারবে না, পারবে না ।

আকর্ষণীমন্ত্রে যোগ দেবার জন্যে মা তার শিষ্যাদলকে ডাক দিল

মা:
আয় তোরা আয়,
আয় তোরা আয় ।

তাদের প্রবেশ ও নৃত্য

যায় যদি যাক সাগরতীরে—
আবার আসুক, আসুক ফিরে ।
রেখে দেব আসন পেতে
হৃদয়েতে ।
পথের ধুলো ভিজিয়ে দেব
অশ্রুনীরে ।
যায় যদি যাক শৈলশিরে—
আসুক ফিরে, আসুক ফিরে ।
লুকিয়ে রব গিরিগুহায়,
ডাকব উহায়—
আমার স্বপন ওর জাগরণ
রইবে ঘিরে ॥

মায়ের মায়ানৃত্য

মা:
ভাবনা করিস নে তুই—
এই দেখ্ মায়াদর্পণ আমার,
হাতে নিয়ে নাচবি যখন
দেখতে পাবি তাঁর কী হল দশা ।
এইবার এসো এসো রুদ্রভৈরবের সন্তান,
জাগাও তাণ্ডবনৃত্য ।

End of 2nd Scene / দ্বিতীয় দৃশ্যের সমাপ্তি


Dance Dramas are currently available.

Visit the following links for detail information. More will come soon.

Forum

Geetabitan.com Forum.

Visit page

Collection of Tagore songs

By Geetabitan.com listed singers.

Visit page

Geetabitan.com singers list

Singers name, profile, photo and songs.

Visit page

Send us your recordings

To publish your song in this site.

Visit page

Collection of Chorus

By groups and institutions.

Visit page