All About Rabindra Sangeet

রবীন্দ্র সঙ্গীতের সব কিছু

Geetabitan.com (since 2008)

Correct pronunciation of 'অ' or A


Rabindra Sangeet Albums. Sung by the verified singers of this website. 160 talented singers & over 850 songs.

Go to page

Rabindra Sangeet Collections. Sung by the verified singers of this website. Nearly 500 unique Tagore songs.

Go to page

Musical events organized by this website on the occasion of Pachishe Boishakh. In the year 2014 and 2015.

2014 2015

Detail information about Rabindra Sangeet. All the lyrics, notations, background history with detail musical compositions, English translation and many more.

Go to page

Rabindra-Sangeet Chinta

How to read notation

Guidelines for singing

Introduction to Correct Pronunciations of Bengali alphabets

Correct pronunciation of 'অ' in Bengali

বাংলা ভাষায় 'অ'-এর নির্ভুল উচ্চারণ

This page explained in detail the correct pronunciation of 'অ' in Bengali. The first vowel in Bengali Barnamala (alphabet) is 'অ'. The origin of the sound is the larynx. The mouth is slightly closed during pronunciation. The written form of this sound is 'অ'. It is also the first letter or first vowel of our alphabet. It is pronounced as 'অ', which is comparable to English 'awe'.

এই পেজে বাংলা বর্ণ 'অ' এর নির্ভুল উচ্চারণ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে । বাংলা ভাষায় প্রথম স্বরধ্বনি 'অ' । উচ্চারণস্থান কণ্ঠ । উচ্চারণের সময় মুখ সামান্য বন্ধ হয় । এই ধ্বনির লিখিত রূপ 'অ' । এটি আমাদের বর্ণমালার প্রথম বর্ণ বা প্রথম স্বরবর্ণও বটে । এর উচ্চারণ 'অ', যা ইংরাজী 'awe' –এর সঙ্গে তুলনীয় । একে বিবৃত উচ্চারণও বলা হয় । এখন একটি সমস্যা আছে । এই একই বর্ণের সাহায্যে আরো একটি ধ্বনিকে প্রকাশ করা হয় । তা হলো 'ও', যা ইংরাজী 'o' –এর সঙ্গে তুলনীয় । এই উচ্চারণকে সংবৃত উচ্চারণ বলা হয়েছে । ক্ষেত্রবিশেষে এই বর্ণের উচ্চারণ পরিবর্তিত হয়ে যায় । যা মূলতঃ নির্ভর করে এই ধ্বনির আগে বা পরে থাকা ধ্বনির ওপরে । সাধারণতঃ সংবৃত এবং বিবৃত উচ্চারণ alternately positioned হতে দেখা যায় । তৎসম শব্দের মধ্যস্থিত 'অ' কিংবা ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে নিহিত 'অ' এর উচ্চারণ সংবৃত বা 'ও' হয় না ।

শুধুমাত্র 'অ' ধ্বনি দিয়ে তাচ্ছিল্যের ভাব প্রকাশ করার রীতি আছে ।

কোন ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে স্বরবর্ণের মাত্রা বা আকার না থাকলে সাধারণ ভাবে ধরে নেওয়া হয় যে তার সঙ্গে 'অ' –কার নিহিত রয়েছে । তবে এই নিয়মের ব্যতিক্রমও আছে ।

ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে 'হস্' চিহ্ন থাকলে তা ব্যঞ্জনান্ত হয় । এই চিহ্ন না থাকলে তার সঙ্গে 'অ' –কার নিহিত আছে এমনটাই ধরে নেওয়া হয় । শব্দের মধ্যে বা অন্তে 'হস্' চিহ্ন না থাকলেও তা ব্যঞ্জনান্ত হতে পারে । সন্ধিবদ্ধ বা সমাসবদ্ধ হলে এই শব্দই আবার 'অ' –কারান্তের মত আচরণ করে । যেমন –

'শ্যাম', সাধারণ ভাবে 'শ্যাম্' এই উচ্চারণই সিদ্ধ, কিন্তু 'শ্যামরায়' –এর ক্ষেত্রে 'ম' সঙ্গে নিহিত 'অ' প্রতীত হয় ।

'কামরা', এই শব্দটিতে 'হস্' চিহ্ন না থাকলেও 'ম' ব্যঞ্জনান্ত (কাম্‌রা) উচ্চারিত হয় । সম্ভবতঃ সহজ লিখন-পদ্ধতি ও সৌন্দর্যের কারণে এই চিহ্ন দেওয়া রীতি অত্যন্ত সীমিত । তবে এর ফলে উচ্চারণ-প্রমাদের সম্ভাবনা থেকে যায় ।

এই মৌলিক ধ্বনিটি বহু শব্দের প্রথমে ব্যবহৃত হয়ে থাকে আবার ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে নিহিত অবস্থায়ও থাকে । প্রাচীনকালে থাকলেও বর্তমান ব্যবহারিক বাংলায় শব্দের মধ্যে বা অন্তে 'অ' বর্ণের ব্যবহার নেই । সেই জায়গায় 'য়' ব্যবহৃত হয় । তবে ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে 'অ' নিহিত থাকতে পারে ।

শব্দের ধ্বনি 'অ' তিন ভাগে বিভক্ত -

১. শব্দের প্রথম ধ্বনি 'অ'

২. শব্দের দ্বিতীয় বা মধ্যবর্তী ধ্বনি নিহিত 'অ'

৩. শব্দের অন্তিম ধ্বনি 'অ'

১. শব্দের প্রথম ধ্বনি 'অ' –

১.১. 'অ', 'অন্', 'অনা', 'অপ', 'অব্', 'কদ্', 'গর্', 'দর্', 'বদ্', 'বর্', 'ভর্', 'স', 'সম্', 'স্ব', 'হর্' ইত্যাদি উপসর্গের 'অ' বা নিহিত 'অ' বিবৃত বা 'অ' উচ্চারিত হবে । যেমন –

'অ': অবিরল (অবিরল্‌), অভাব (অভাব্‌), অবলা (অবলা), অমৃত (অম্‌রিত)

'অন্': অনাচার (অনাচার্‌), অনাদর (অনাদোর্‌), অনাবৃষ্টি (অনাব্‌রিশ্‌টি), অনুচিত (অনুচিত্‌), অনুপস্থিত (অনুপোস্‌থিত্‌), অনস্বীকার্য (অনোশিকার্‌জো), অনধিকার (অনোধিকার্‌)

'অনা': অনাসৃষ্টি (অনাস্‌রিশ্‌টি)

'অপ': অপদস্থ (অপোদস্‌থো), অপসারণ (অপোশারোন্‌), অপকার (অপোকার্‌), অপনোদন (অপোনোদন্‌)

'অব্': অবজ্ঞা (অবোগ্‌গাঁ), অবনমন (অবোনমোন্‌), অবগাহন (অবোগাহোন্‌), অবতরণ (অবোতরোন্‌), অবশেষ (অবোশেশ্‌)

'কদ্': কদাকার, কদাকার (কদাকার্‌), কদাচার (কদাচার্‌), কদাচিৎ (কদাচিত্‌), কদাপি (কদাপি), কদর্য (কদর্‌জো)

'গর্': গরহাজির (গর্‌হাজির্‌), গরমিল (গর্‌মিল্‌), গররাজি (গর্‌রাজি)

'দর্': দরখাস্ত (দর্‌খাস্‌তো), দরদালান (দর্‌দালান্‌)

'বদ্': বদমেজাজ (বদ্‌মেজাজ্‌), বদরাগী (বদরাগি), বদনাম (বদ্‌নাম্‌), বজ্জাত (বজ্‌জাত্‌)

'বর্': বরদাস্ত (বর্‌দাস্‌তো), বরখাস্ত (বর্‌খাস্‌তো), বরবাদ (বর্‌বাদ্‌)

'ভর্': ভরপেট (ভর্‌পেট্‌), ভরদুপুর (ভর্‌দুপুর্‌), ভরপুর (ভর্‌পুর্‌)

'স': সকারণ (শকারোন্‌), সবিনয় (শবিনয়্‌), সলজ্জ (শলজ্‌জো), সহাস্য (শহাশ্‌শো)

'সম্': সম্মান (শম্‌মান্‌), সমাদর (শমাদোর্‌), সম্মতি (শম্‌মোতি), সম্ভাষণ (শম্‌ভাশোন্‌)

'স্ব': স্বভাব (শভাব্‌), স্বকীয় (শকিও), স্ববিরুদ্ধ (শবিরুদ্‌ধো), স্বরচিত (শরোচিতো), স্বরূপ (শরুপ্‌)

'হর্': হরদম (হর্‌দম্‌), হরেক (হরেক্‌), হরতাল (হর্‌তাল্‌)

১.২. 'অতি', 'অধি', 'অনু', 'অভি', 'প্র', 'পরি' উপসর্গের 'অ' বা নিহিত 'অ' সংবৃত বা 'ও' উচ্চারিত হবে । যেমন –

'অতি': অতিকায় (ওতিকায়্‌), অত্যাচার (ওত্‌তাচার্‌), অতিশয় (ওতিশয়্‌), অতিমানব (ওতিমানোব্‌)

'অভি': অভিজ্ঞ (ওভিগ্‌গোঁ), অভিভূত (ওভিভুতো), অভিসার (ওভিসার্‌), অভিবাদন (ওভিবাদোন)

'অধি': অধিকার (ওধিকার্‌), অধিবাসী (ওধিবাসি), অধিষ্ঠান (ওধিশ্‌ঠান্‌)

'অনু': অনুমতি (ওনুমোতি), অনুসরণ (ওনুসরোন্‌)

'প্র': প্রভাত (প্রোভাত্‌), প্রতি (প্রোতি), প্রণতি (প্রোনোতি)

'পরি': পরিদর্শন (পোরিদর্‌শোন), পরিচালনা (পোরিচালোনা), পরিসমাপ্তি (পোরিসমাপ্‌তি)

১.৩. দ্বিতীয় ধ্বনি ব্যঞ্জনান্ত বা 'অ', 'আ', 'এ', 'ও', 'র' যুক্ত হলে প্রথম ধ্বনিতে 'অ' বা নিহিত 'অ' বিবৃত বা 'অ' উচ্চারিত হবে । যেমন –

'ব্যঞ্জনান্ত': অব্‌, অর্‌, কচ্‌কচ্‌, কট্‌কট্‌, কন্‌কন্‌, কপ্‌, কব্‌, কম্‌, কর্‌, কল্‌কল্‌, কষ্‌, খচ্‌খচ্‌, খট্‌খট্‌, খন্‌খন্‌, খল, খস্‌খস্‌, গট্‌গট্‌, গন্‌গন্‌, গব্‌গব্‌, গম, গর্‌গর্‌, গল্‌গল্‌, ঘর, ঘট, ঘড়্‌ঘড়্‌, ঘস্‌ঘস্‌, চক্‌চক্‌, চর্‌, চল্‌, ছক্‌, ছল্‌, ছড়্‌, ছপ্‌, ছম্‌, জর্‌জর্‌, জল, ঝর্‌, ঝম্‌, ঝল্‌, টক (টক্‌), টপ (টপ্‌), টস্‌ (টশ্‌), ঠক্‌, ঠগ্‌, ঠন্‌, ডর, তল, তর, তছনছ, থল, থক্‌, দম, দশ, দর, দংশন, দল, ধক্‌ধক্‌, ধস্‌ধস্‌, ধর, নদ, পট, পর, পশলা, ফল, ফুল, বক্‌বক্‌, বচ, বল, ভক্‌ভক্‌, ভষ্ম (ভশ্‌শো), ভক্ত (ভক্‌তো), ভরসা (ভর্‌শা), ভয়, মক্‌মক্‌, মগ, মত, মৎস, মদ, ময়, ময়দা, মর, মল, মটকা, যশ, রক, রম, রস, লয়, লব, লড়, শন্‌শন্‌, শব্‌, সব (শব্‌), সৎ (শৎ), সয় (শয়্‌), হয়, হক

'অ': অন্ন, অল্প, অস্ত, অর্দ্ধ, কণ্ঠ (কন্‌ঠো), কত (কতো), কদলী (কদোলি), কদর (কদোর্‌), কবরী, কমল (কমোল্‌), করবী, কর্ম (কর্‌মো), কলস (কলোশ্‌), খঞ্জ (খন্‌জো), খবর (খবোর্‌), গঠন (গঠোন্‌), গড়ন (গড়োন্‌), গণ্ড (গন্‌ডো), গরম (গরোম্‌), গমন (গমোন্‌), গর্ব, ঘন (ঘনো), ঘর্ম (ঘর্‌মো), ঘর্ষণ (ঘর্‌শোন্‌), ঘটনা (ঘটোনা), চমক (চমোক্‌), চরণ (চরোন্‌), চপল (চপোল্‌), চলন (চলোন্‌), চরণ, ছদ্ম (ছদ্দো), ছন্দ (ছন্‌দো), জখম (জখোম্‌), জগৎ (জগোত্‌), জবর (জবোর্‌), ঝলক (ঝলোক্‌), ঝমক (ঝমোক্‌), টগর (টগোর্‌), টনক (টনোক্‌), টহল (টহোল্‌), ঠমক, ডম্বরু (ডম্‌বোরু), ডহর (ডহোর্‌), তখন (তখোন্‌), তরণ, (তরোন্‌), তব (তবো), তবক (তবোক্‌), থমক (থমোক্‌), থতমত (থতোমতো), দশন (দশোন্‌), দমন (দমোন্‌), ধবল (ধবোল্‌), ধকল (ধকোল্‌), ধরণী (ধরোনি), নগ (নগো), নত (নতো), নট (নটো), নক্র (নক্রো), নম (নমো), পঙ্ক (পংকো), পতঙ্গ (পতোংগো), পদচিহ্ন (পদোচিন্‌হো), পশম (পশোম্‌), পদ (পদো), ফসল (ফসোল্‌), ফলক (ফলোক্‌), ফলন্ত (ফলোন্‌তো), ফটক (ফটোক্‌), বলন (বলোন্‌), বমন (বমোন্‌), বরণ (বরোন্‌), ভকত (ভকোতো), ভরণ (ভরোন্‌), মদন (মদোন্‌), মরণ (মরোন্‌), মস্ত (মস্‌তো), মকর (মকোর্‌), মদন (মদোন্‌), মশক (মশোক্‌), মহৎ (মহোত্‌), মড়ক (মড়োক্‌), মগ্ন (মগ্‌নো), মম (মমো), মমতা (মমোতা), মর্কট (মর্‌কট্‌), মর্দ্দ (মর্‌দো), মস্তক (মস্‌তক্‌), যখন (জখোন্‌), যবন (জবোন্‌), যত (জতো), রত (রতো), রচনা (রচোনা), লবণ (লবোন), শত (শতো), ষড় (ষড়ো), সততা (শতোতা), সকল (শকোল্‌), হত (হতো), হস্ত (হস্‌তো)

'আ': অঘ্রাণ (অগ্‌ঘ্‌রাণ), কটা, কণা, কর্ত্তা, কথা, কলা, খরা, গঙ্গা, গবা, গলা, ঘড়া, ঘণ্টা (ঘন্‌টা), ঘরানা, চখা, ছড়া, ছলা, জটা, টপাটপ, তথা, তপা, তলা, দমানো, দয়া, দরাজ, দশানন (দশানোন্‌), নরাধম, পরাজয়, পসার, পলান্ন (পলান্‌নো), ফলার, বখাটে, বলাকা, মড়াই, মতামত, মশাই, মজা, মহা, মড়া, যথা (জথা), যদা (জদা), রমা, রফা, লড়াই, লতা, শলা, শলাকা, ষড়ানন (শড়ানোন), সখা (শখা), সবাই (শবাই), সমান (শমান্‌)

'এ': অনেক, কবে, খগেন্দ্র (খগেন্‌দ্‌রো), গলে, ঘরে, তপেন, দলে, নগেন্দ্র (নগেন্‌দ্‌রো), নরেশ, নহে, পরে, পরেশ, ফলে, বটে, বরেন, বরেণ্য, ভরেন, ভদ্রেশ্বর (ভদ্‌রেশ্‌শর), ভবেশ, মজে, যবে, রমেন, লড়ে, সরেস, সবে (শবে), হরেক

'ও': অঘোর, অধো, করো, কপোত, কবোষ্ণ (কবোশ্‌নো), কম্বোজ, খগোল, খদ্যোৎ (খদ্‌দোত্‌), গড়ো, ঘষো, চওড়া, চলো, চকোর, তমোঘ্ন (তমোঘ্‌নো), তলোয়ার, দলো, ধরো, নমো, পরোক্ষ (পরোক্‌খো), ফটো, বকো, বলো, ভগ্নোদ্যম (ভগ্‌নোদ্‌দম্‌), ভবোচ্ছেদ (ভবোচ্‌ছেদ্‌), মরো, মনোজ, রচো, সরো (শরো), লড়ো, হবো

'র': অগ্র (অগ্‌রো), অভ্র (অভ্‌রো), নক্র (নক্‌রো)

১.৪. দ্বিতীয় ধ্বনিতে 'ই', 'উ', 'ঋ', 'ক্ষ', 'জ্ঞ', 'য', '' থাকলে প্রথম ধ্বনিতে 'অ' বা নিহিত 'অ' সংবৃত বা 'ও' উচ্চারিত হবে । যেমন –

'ই': অগ্নি (ওগ্‌নি), অতি (ওতি), অতীত (ওতীত্‌,), অস্থি (ওস্‌থি), অদ্রি (ওদ্‌রি), অধিক (ওধিক্‌), অবিকল (ওবিকল্‌,), অভিশাপ (ওভিশাপ), অয়ি (ওয়ি), অরি (ওরি), অলি (ওলি), অসি (ওসি), অহি (ওহি), কই (কোই), কবি (কোবি), কপি (কোপি), কলি (কোলি), কষি (কোশি), করি (কোরি), করী (কোরী), খই (খোই), খসি (খোসি), খটি (খটা-খটি = খটা-খোটি), খচিত (খোচিতো), গবী (গোবী), গরীব (গোরীব্‌), গলি (গোলি), গর্মি (গোর্‌মি), গভীর (গোভীর্‌), গলিত (গোলিতো), ঘটি (ঘোটি), ঘড়ি (ঘোড়ি), চকিত (চোকিতো), চরিত্র (চোরিত্রো), চলি (চোলি), ছবি (ছোবি), ছলি (ছোলি), জটিল (জোটিল্‌), ঝটিকা (ঝোটিকা), টলি (টোলি), ঠগী (ঠোগী), তনিমা (তোনিমা), তপী (তোপি), থলি (থোলি), দই (দোই), দরিদ্র (দোরিদ্রো), দড়ি (দোড়ি), দক্ষিণ (দোক্‌খিন্‌), দরিদ্র (দোরিদ্‌রো), ধরি (ধোরি), ধরিত্রী (ধোরিত্‌রি), নদী (নোদি), নতি (নোতি), নমি (নোমি), পতি (পোতি), পত্নী, পরিচয় (পোরিচয়), পলি (পোলি), পরিবেশ (পোরিবেশ্‌), পশিল (পোশিলো), ফটিক (ফোটিক্‌ < স্ফটিক), ফলিত (ফোলিতো), ফণী (ফোনী), ফন্দি (ফোন্‌দি), বই (বোই), বলি (বোলি), বরি (বোরি), ভরিল (ভোরি্লো), ভক্ষিত (ভোক্‌খিতো), ভগিনী (ভোগিনি), ভবিষ্যৎ (ভোবিশ্‌শত্‌), মই (মোই), মতি (মোতি), মনীষী (মোনীশী), মরি (মোরি), মক্ষী (মোক্‌খি), মদিরা (মোদিরা), মদীয় (মোদীয়ো), মসী (মোশী), মহী (মোহী), মলিন (মোলিন্‌)), মণি (মোণি), মহিষ (মোহিশ্‌), মরিচ (মোরিচ্‌), যদি (জোদি), রশি (রোশি), রবি (রোবি), লই (লোই), ললিত (লোলিতো), শনি (শোনি), শরীর (শোরীর্‌), সখী (শোখী), সমিধ (শোমিধ), সমীর (শোমীর্‌), সম্বিত (শোম্‌বিত্‌), সমীরণ (শোমীরন্‌), হইতে (হইতে), হবি (হোবি), হরি (হোরি), হস্তি (হোস্‌তি)

'উ': অধুনা (ওধুনা), অরুণ (ওরুন্‌), অশ্রু (ওস্‌রু), অসুর (ওশুর্‌), কটু (কোটু), কভু (কোভু), কলু (কোলু), কসুর (কোশুর্‌), খসুক (খোশুক্‌), গরু (গোরু), ঘসুন (ঘোশুন্‌), চলুন (চোলুন্‌), জটু (জোটু), জলু (জোলু), ঝলুক (ঝোলুক্‌), তবু (তোবু), তনু (তোনু), তরুণ (তোরুন্‌), তন্তু (তোন্‌তু), দস্যু (দোশ্‌শু), দরুণ (দোরুন), দর্পী (দোর্পি), ধরুন (ধোরুন্‌), নকুল (নোকুল্‌), নতুন (নোতুন্‌), পটু (পোটু), পশু (পোশু), ফল্গু (ফোল্‌গু), ফতুর, বউ (বোউ), বলুন (বোলুন্‌), বসুন (বোশুন্‌), বড়ুয়া (বোড়ুয়া), ভরুক (ভোরুক্‌), ভল্লুক (ভোল্‌লুক), মউ (মোউ), মরুক (মোরুক্‌), মধু (মোধু), মজুরী (মোজুরি), ময়ূর (মোয়ুর্‌), মঞ্জু (মোন্‌জু), মনু (মোনু), যদু (জোদু), যমুনা (জোমুনা), রসুন (রোশুন্‌), লঘু (লোঘু), লগুড় (লোগুড়্‌), শকুন (শোকুন্‌), সবুজ (শোবুজ্‌), হনু (হোনু)

'ঋ': কর্তৃক (কোর্‌ত্‌রিক্‌), ভর্তৃকা (ভোর্‌ত্‌রিকা), মসৃণ (মোস্‌রিন্‌), সম্বৃত (সোম্‌ব্‌রিতো)

'ক্ষ': অক্ষ (ওক্‌খো), অক্ষর (ওক্‌খোর্‌), কক্ষ (কোক্‌খো), চক্ষু (চোক্‌খু), তক্ষক (তোক্‌খোক্‌), দক্ষ (দোক্‌খো), দক্ষিণ (দোক্‌খিন্‌), পক্ষ (পোক্‌খো), বক্ষ (বোক্‌খো), ভক্ষণ (ভোক্‌খোন্‌), মক্ষী, যক্ষ (জোক্‌খো), রক্ষ (রোক্‌খো), রক্ষে (রোক্‌খে), রক্ষা (রোক্‌খা), লক্ষ (লোক্‌খো), লক্ষণ (লোক্‌খোন), লক্ষ্য (লোক্‌খো)

লক্ষ্যণীয় – ক্ষ + ম = ক্ষ্ম, এই যুক্তবর্ণে এই নিয়ম খাটে না । তখন দ্বিতীয় বর্ণের নিহিত স্বরবর্ণের দ্বারা প্রথম বর্ণের নিহিত 'অ' বিবৃত বা সংবৃত উচ্চারণ নির্ধারিত হয় । যেমন –
যক্ষ্মা (জক্‌খা), লক্ষ্মণ (লক্‌খোন), এখানে দ্বিতীয় বর্ণের নিহিত 'অ' বা 'আ' –কারের জন্য প্রথম বর্ণ বিবৃত হবে
লক্ষ্মী - (লোক্‌খি), এখানে দ্বিতীয় বর্ণের নিহিত 'ঈ' –কারের জন্য প্রথম বর্ণ সংবৃত হবে

'জ্ঞ': যজ্ঞ (জোগ্‌গোঁ)

'য': অত্যন্ত (ওত্‌তোন্‌তো), অধ্যাদেশ (ওদ্‌ধাদেশ্‌), অভ্যাগত (ওব্‌ভাগতো), অদ্য (ওদ্‌দো), অধ্যক্ষ (ওদ্‌ধোক্‌খো), অন্য (ওন্‌নো), কন্যা (কোন্‌না), কল্যাণ (কোল্‌লান), গদ্য (গোদ্‌দো), তথ্য (তোত্‌থো), ধন্য (ধোন্‌নো), পথ্য (পোত্‌থো), পদ্য (পোদ্‌দো), পর্যবেক্ষণ (পোর্‌জোবেক্‌খন), বন্যা (বোন্‌না), মধ্য (মোদ্‌ধো), সত্য (শোত্‌তো), সদ্য (শোদ্‌দো), সন্ধ্যা (শোন্‌ধা), সভ্যতা (শোব্‌ভোতা), সহ্য (শোজ্‌ঝো), হত্যা (হোত্‌তা)

১.৫. চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদের উচ্চারণের রীতি প্রকৃতপক্ষে সাধুভাষারই অনুসারী । তাই চলিত ভাষায় যে কোন ধাতুর বিভিন্ন রূপ বিশ্লেষণ করলে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় । চল, চলে, চলো এইগুলিতে সমস্যা না থাকলেও চ'লে (চোলে), চলতে (চোল্তে) এই শব্দগুলিতে যেন যুক্তির অভাব ঘটে । এই শব্দগুলির বিশ্লেষণে সাধুভাষার রূপটি বিচার করলে সহজে সমাধান করা যায় । যেমন –

চলিয়া = চ'লে, দ্বিতীয় বর্ণে 'ই' –কার থাকার কারণে প্রথম ধ্বনি সংবৃত (চোলিয়া বা চোলে) হবে ।

চলিতে = চলতে (চোলিতে = চোল্‌তে)

একই ভাবে:

করিতে > করতে, ভরিয়া > ভ'রে, গড়িয়াছিলেন > গ'ড়েছিলেন এই রূপের শব্দে প্রথম ধ্বনি সংবৃত হবে ।

চলুন, বলুন, করুন – দ্বিতীয় ধ্বনি 'উ' –কার যুক্ত হওয়ার কারণে প্রথম ধ্বনি সংবৃত (চোলুন্, বোলুন্, করুন) হবে ।

চলেন, বলেন, করেন – দ্বিতীয় ধ্বনি 'এ' –কার যুক্ত হওয়ার কারণে প্রথম ধ্বনি বিবৃত (চলেন্, বলেন্, করেন্) হবে ।

চলা, বলা, করা – দ্বিতীয় ধ্বনি 'আ' –কার যুক্ত হওয়ার কারণে প্রথম ধ্বনি বিবৃত হবে ।

২. শব্দের দ্বিতীয় বা মধ্যবর্তী ধ্বনি নিহিত 'অ'

২.১. শব্দের আরম্ভে উপসর্গ যুক্ত হলে, সন্ধিবদ্ধ বা সমাসবদ্ধ শব্দের ক্ষেত্রে তাকে ভেঙে শব্দাংশগুলিকে পৃথক গুরুত্বসহ বিশ্লেষণ করে উচ্চারণ করা উচিৎ । যেমন –

স্ববিরোধ = স্ব + বিরোধ (শ + বিরোধ্ = শবিরোধ্), দ্বিতীয় ধ্বনি 'ই' –কার যুক্ত হওয়া স্বত্বেও প্রথম ধ্বনি বিবৃত হবে ।

অনতিদূর = অন্ + অতি + দূর (অন্ + ওতি + দূর্ = অনোতিদূর্)

অশনিতর্জন = অ + শনি + তর্জন (অ + শোনি + তর্‌জোন্ = অশোনিতর্‌জোন্)

আনন্দঘন = আনন্দ + ঘনো (আনোন্‌দো + ঘনো = আনোন্‌দোঘনো)

কণকাসন = কনক + আসন (কনোক + আশোন্ = কনোকাশোন্)

তাপদহনদীপ্ত = তাপ + দহন + দীপ্ত (তাপো + দহোনো + দীপ্‌তো = তাপোদহোনোদীপ্‌তো)

পরিসমাপ্তি = পরি + সমাপ্তি (পোরি + শমাপ্‌তি = পোরিশমাপ্‌তি)

২.২. দ্বিবর্ণিক ব্যঞ্জনান্ত ধাতু (কর্, চল্, পড়্, খেল্ ইত্যাদি) দিয়ে গঠিত শব্দে ধাতুর দ্বিতীয় ধ্বনি ব্যঞ্জনান্তই থেকে যায় । যেমন –

করছি (কর্‌ছি), চলছিলাম (চল্‌ছিলাম), পড়ছ (পড়্‌ছো), খেলছে (খেল্‌ছে)

২.৩. বহু শব্দের আরম্ভে 'অপ' এবং 'উপ' এই উপসর্গ যুক্ত হয় । সে ক্ষেত্রে উচ্চারণ 'অপো' এবং 'উপো' হবে । যেমন –

'অপ' : অপকার (অপোকার), অপমান (অপোমান্‌), অপসারণ (অপোসারোন্‌), অপনোদন (অপোনোদন্‌)

'উপ' : উপকার (উপোকার), উপদ্রব (উপোদ্‌রোব্‌), উপমন্ত্রী (উপোমোন্‌ত্‌রি), উপশম (উপোশম্‌)

২.৪. পরবর্ত্তী ধ্বনি 'য়্' থাকলে শব্দমধ্যে অবস্থিত নিহিত 'অ' বিবৃত বা 'অ' উচ্চারিত হবে । যেমন –

অক্ষয়, কিশলয়, নিচয়, নিশ্চয়, বলয়, বিক্রয়, বিনয়, বিষয়, মহাশয়, সময়

২.৫. প্রথম ধ্বনি 'ই', 'উ', 'এ' হলে উচ্চারণ হবে উচ্চারণ বিবৃত বা 'অ' । যেমন –

ক্ষেপন (খেপন্‌), বিপদ (বিপদ্‌), বিভব (বিভব্‌), বিলম্ব (বিলম্‌বো), ভীষণ (ভীশন্‌), মুখর (মুখর্‌), লিখন (লিখন্‌), লেপন (লেপন্‌), সেবক (সেবক্‌), ইমন (ইমন্‌), বেলন (বেলন), লেহন (লেহন্‌)

২.৬. প্রথম ধ্বনি 'অ', 'আ', 'অ্যা', 'ও', হলে উচ্চারণ সংবৃত বা 'ও' হবে । যেমন –

মকর (মকোর্‌), অক্ষর (ওক্ষোর্‌), রকম (রকোম্‌), সকল (সকোল্‌), কখন (কখোন্‌), এখন (অ্যাখোন্‌), মগন (মগোন্‌), জগত (জগোত্‌), ভগন (ভগোন্‌ < ভগ্ন), আঁচল (আঁচোল্‌), বচন (বচোন্‌), বচনী (বচোনি), কাজল (কাজোল্‌), মটর (মটোর্‌), পটল (পটোল্‌), জঠর (জঠোর্‌), শঠতা (শঠোতা), গড়ন (গড়োন্‌), কণক (কনোক্‌), গণনা (গনোনা), যাতনা (জাতোনা), মদন (মদোন্‌), আনন (আনোন্‌), আনন্দ (আনোন্‌দো), কানন (কানোন্‌), মানস (মানোশ্‌), ধরণ (ধরোন্‌), আপত্তি (আপোত্‌তি), কপট (কপোট্‌), স্বপন (শপোন্‌), আপদ (আপোদ্‌), ওপর (ওপোর্‌), কাপড় (কাপোড়্‌), জ্ঞাপন (গ্যাঁপোন),টোপর (টোপোর), বিপনী (বিপোনি), শ্বাপদ (শাপোদ্‌), অবশ (অবোশ্‌), অবস্থা (অবোস্‌থা), আবরণ (আবোরন্‌), খবর (খবোর্‌), লবণ (লবোন্‌), লাবণ্য (লাবোন্নো), বিবরণ (বিবোরন্‌), কেবল (কেবোল্‌), গোবর (গোবোর্‌), সুবল (সুবোল্‌), ব্যবস্থা (ব্যাবোস্‌থা), আভরণ (আভোরন), আমন (আমোন্‌), কমলা (কমোলা), কামনা (কামোনা), কোমর (কোমোর্‌), ক্ষমতা (খমোতা), চামচ (চামোচ্‌), দমন (দমোন্‌), রমণী (রমোনি), শমন (শমোন্‌), যেমন (যেমোন্‌), শ্রমণ (স্‌রোমোন্‌), নিয়ম (নিয়োম্‌), অরণি (অরোনি), আরতি (আরোতি), গরম (গরোম্‌), চরম (চরোম্‌), বরণ (বরোন্‌), বিরতি (বিরোতি), সরযু (শরোজু), সুরভী (শুরোভি), জলদ (জলোদ্‌), কলম (কলোম্‌), ললনা (ললোনা), অশন (আশোন্‌), পশম (পশোম্‌), আসন (আশোন্‌), বসন (বশোন্‌), রসনা (রসোনা), লহমা (লহোমা), সহন (শহোন্‌)

২.৭. এছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে শব্দের মধ্যে নিহিত 'অ' থাকলে তা সংবৃত বা 'ও' উচ্চারিত হবে ।

৩. শব্দের অন্তিম ধ্বনি 'অ'

৩.১. শব্দের শেষে নিহিত 'অ' থাকলে 'ও' উচ্চারিত হবে । যেমন –

অমৃত (অম্‌রিতো), মৃগ (ম্‌রিগো), কর্ণ (কর্‌নো), বিব্রত (বিব্‌রোতো), সমাপ্ত (শমাপ্‌তো)

৩.২. বহু ক্ষেত্রে বানান অ-কারান্ত হলেও ব্যঞ্জনান্ত উচ্চারিত হয় । যেমন –

মেঘ, অমিত, কলম, গরীব, গাণ্ডীব, বশ, মাধব, শরীর, হরণ,

৩.৩. লক্ষ্যণীয় এই যে সমাসবদ্ধ হলে এই শব্দই আবার অ-কারান্তের মত ব্যবহার করে । যেমন –

মেঘ + গর্জন = মেঘগর্জন (মেঘোগর্‌জন্‌),
জল + সিঞ্চন = জলসিঞ্চন (জলোশিন্‌চন্‌)

অমিত + বিক্রম = অমিতবিক্রম (অমিতোবিক্‌রম্‌)

সাধারণ ভাবে ব্যঞ্জনান্ত শব্দ কাব্যের প্রয়োজনে 'অ' –কারান্ত হতে পারে । যেমন –

আঁখিজল (আঁখিজলো), দক্ষিণ (দক্‌খিনো), পরম (পরোমো)

Related guidelines


More related guidelines for how to sing Tagore song. Visit the links below.

Rabindra-Sangeet Chinta

How to read notation

Guidelines for singing

Introduction to Correct Pronunciations of Bengali alphabets